সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) নিজ বাসভবনে দলের কারণ দর্শানের নোটিশের জবাব দিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শোকজের সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মেজর হাফিজ।
এসময় তিনি দাবি করেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে কখনো কোনো অসৌজন্যমূলক বক্তব্যই দেননি। খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার কোনো ফর্মুলায়ও তিনি ছিলেন না বলে দাবি তার। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত সভায় যোগদানের পূর্বেই পুলিশ আমাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে, এ কারণেই বরিশাল যেতে পারিনি। আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল বর্তমান সরকার। বিএনপির কোন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে এধরনের মারাত্মক অভিযোগ দায়ের করার কথা আমার জানা নেই। এ মামলা ছাড়াও এক ডজন মামলায় আমি গত দশ বছর ধরে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের কোণঠাসা করে রাখতে দলে একটি মহল সক্রিয় বলেও মন্তব্য হাফিজের।
হাফিজ অভিযোগ করেন, নোটিশ দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করেছেন। মেজর হাফিজ জানান, বিএনপিতে যোগদানের পূর্বেই আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। বিগত ২২ বছর ধরে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে একজন যুগ্ম মহাসচিব (আদিষ্ট না হয়েও) এমন কঠিন, আক্রমণাত্মক ভাষায় কৈফিয়ত তলব করায় অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি। এখানে প্রটোকল ও সৌজন্যের ব্যত্যয় ঘটেছে। ব্যক্তি রুহুল কবির রিজভী একজন ভদ্র, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা। তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার কাছ থেকে এ ধরনের চিঠি আশা করিনি। দলকে বিভিন্ন সময় ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী ১১টি অভিযোগ এনে গত ১৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।